ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক ছাত্রের গল্প

মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ ২:১৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 55 বার
Link Copied!

রবিন মিয়া (১৬) একজন অটোরিকশা চালক। যার লেখাপড়ায়ও অদম্য ইচ্ছা শক্তি রয়েছে সে কিশোরগঞ্জ জেলা কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ মুুমুরদিয়া গ্রামের মোঃ রমজান আলীর ছোটে ছেলে রবিন মিয়া (১৬)। হাজেরা সুলতানা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। চাল-চলন কথাবার্তায় সবার চেয়ে একটু ব্যতিক্রম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চার ভাই বোনের মধ্যে রবিন সবার ছোট। রবিন মিয়ার বাবা মোঃ রমজান আলীর একজন অতি দরিদ্র কৃষক। তার পক্ষে স্কুল পড়ুয়া ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু অভাবের কাছে হার না মানা এই ছাত্র অভাবের মধ্যেই নিজে রোজগার করে কোচিং না করেই এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বাড়ি থেকে টাকা না দিতে পারায় এখন এই সাহসী যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা শেষেই রোজগারের জন্য অটোরিকশা নিয়ে বের হয় সে। দিনের বেলায় স্কুল ছাত্র আর রাতে অটোরিকশা চালক।

রবিন মিয়া জানান,আমি গত ৩ বছর ধরে অটোরিক্সা চালিয়ে যাচ্ছি আমার পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য। আমার বাবা দরিদ্র কৃষক হওয়ায় আমার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই আমি অটোরিকশা চালিয়ে আমার লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি বাড়ির খরচও চালাই। দুপুরের থেকে রাত চালিয়ে আমি প্রতিদিন রোজগার করি। আর দিনের বেলায় টিউশনি করি।

রবিনের বড় ভাই সোহেল মিয়া জানান,আমাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে রবিন সবার ছোট। সে লেখাপড়ায় ভালো। নিজ চেষ্টায় লেখা পড়া করে যাচ্ছে। তার নিজের লেখাপড়ার খরচ সে নিজে অটোচালিয়ে জোগার করে।

রবিনের বাবা মো. রমজান মিয়া বলেন, আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ০৬ জন। আয় রোজগার বলতে কিছু নেই। প্রবাস ফেরত দুই ছেলে মিলে একটি অটোরিকশা কিনেছে। এটিই এখন একমাত্র ভরসা। রবিন শান্ত,সরল প্রকৃতির ছেলে। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে সে অটোরিকশা চালায়। এতে সে লজ্জা বোধ করে না। বরং পরিশ্রমের মাধ্যমে আয় রোজগারে সে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। নিজের খরচের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হয় না। রবিনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই সে যেন জীবনে বড় হতে পারে।

মুমুরদিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শামীমা আক্তার শাম্মী বলেন, রবিন ভালো ছেলে। নিয়মিত স্কুলে যায়, পড়াশোনা করে। রবিন পিতা মাতার দারিদ্রতার কারণে শিক্ষা থেকে দূরে সরে না গিয়ে উন্নতির শিখরে পৌছতে পারে আমি ও চেয়ারম্যান আমার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আর্থিকসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খানাজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান জানান, রবিন একজন মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী ছেলে। সে আমাদের এ অঞ্চলের গর্ব। সে একমাত্র নিজের প্রচেষ্টায় তার লেখাপড়া চালাচ্ছে। আমি আগামীতে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।