ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:০৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিরোজপুরে ব্যাটারী চালিত অবৈধ ইজিবাইকের ছড়াছড়ি

এস এম নিয়াজ মোর্শেদ
নভেম্বর ১, ২০২২ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 76 বার
Link Copied!

পিরোজপুর শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক। এতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। অবৈধ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বেড়েই চলেছে। এসব অটো চালকদের জানা নেই ট্রাফিক নিয়ম কানুন, নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও। যত্রতত্র তাঁরা করছেন পার্কিং।

এসব অবৈধ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের কারনে বেড়েছে লোডশেডিং।

সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুর সদরে ইজিবাইক চার্জিং স্টেশন আছে ২০ টি। এসব স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ১৬০০ থেকে ১৮০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। সবমিলিয়ে মাস শেষে প্রায় ৫০০০০ থেকে ৫৫০০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়।

বিদ্যুৎ অফিসের এসিস্ট্যেন্ট ইঞ্জিনিয়ার রায়হান জানান, অবৈধ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনগুলো বন্ধে আমাদের একটি টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলো অবৈধ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক চার্জিং স্টেশন বন্ধ করেছি এবং আমাদের এই কাজ অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, শহরের আয়তনের তুলনায় ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক চলাচল বেশি হওয়ায় সৃষ্টি হয় যানজট। এসব অটো চলাচল করে বেপরোয়া গতিতে। ইজিবাইকের এমন দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষকে চলাচলের সময় পড়তে হয় দুর্ঘটনার কবলে। অনেক সময় দেখা মেলে, ১০/১২ বছরের কিশোরেরাও এসব অটো চালাচ্ছে। তাদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। বোঝে না ট্রাফিক নিয়মকানুন। নেই গাড়ি চালানোর নূন্যতম দক্ষতা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, ৮ম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু উদ্বোধনের পর থেকে কাউখালী ও রাজাপুর থেকে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক জেলা শহরে প্রবেশ করে যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে। সদর হাসপাতাল রোড, কলেজ রোড ও শহরের মধ্যে অবাধ বিচরণ এসব যানবাহনের। স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ অসুস্থ রোগী চলাচলেও বেশ বেগ পেতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে কয়েকগুণ। এতে ঘটে দুর্ঘটনা, ব্যাহত হয় অন্য যানবাহন চলাচল। ইজিবাইকের জন্য শহরে নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। ইজিবাইকের এমন বেপরোয়া চলাচল আর দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচতে চান তাঁরা।

পথচারী শামসুর রহমান বলেন, ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক বেপরোয়া চলাচলের কারণে শহরের রাস্তায় ভোগান্তি হয়। ঠিকমতো চলাফেরাও করা যায় না।

মোটরসাইকেল আরোহী আনান বলেন, ইজিবাইক এলাকাভিত্তিক চলাচল করলে যানজট ও জনগণের ভোগান্তি হবে না। একই সঙ্গে চালকদেরও নিয়ে আসতে হবে নিয়মনীতির আওতায়।

ইজিবাইকের নিয়মিত যাত্রী ইলিয়াস হোসেন জানান, যাঁরা ইজিবাইক চালান, তাঁরা অধিকাংশ ট্রাফিক আইন বোঝে না, আবার যেখানে-সেখানে যাত্রী দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়ে। এ সময় পেছনে থাকা যানবাহন ধাক্কা দেয়। এতে মাঝে মাঝে চরম দূর্ঘটনার স্বীকার হয় সাধারণ মানুষ।

ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি মজনু তালুকদার জানান, আমাদের পৌরসভার রেজিস্ট্রেশনকৃত ৭০০ ইজিবাইক/অটোরিক্সা আছে। কিন্তু শহরে অনেক বেশি চলাচল করে। পৌরসভা থেকে ইজিবাইকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অটোরিকশাগুলো একটা নিয়ম-নীতির মধ্যে আসলে শহরের যানজট কমবে। সেই সঙ্গে এটি চমৎকার শহরে রূপান্তরিত হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।