ঢাকাসোমবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৪৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা

মুক্তবার্তা ডেস্ক
জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 26 বার
Link Copied!

অষ্টম শ্রেণি পাশ তানজিনা আক্তার ইভা ওরফে মেরি ওরফে মাহি। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে পরিচয় দিতেন ও লেভেল এবং এ লেভেল পাশ করে যুক্তরাজ্যের একটি আইটি ফার্মে কর্মরত আছেন।

টিকটক, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট দিতেন নিজের অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও। পরে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ফেলতেন প্রেমের জালে। ধনাঢ্য ব্যক্তি হলে করে ফেলতেন বিয়ে। পরে ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং অডিও ও ভিডিওতে হওয়া কথোপকথোন রেকর্ড করে ব্লাকমেইল করে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা।

তার এই প্রণয়ে পড়ে প্রতারণার স্বীকার হয়েছে শতাধিক ব্যক্তি। বিয়ের ফাঁদে পড়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। যাদের মধ্যে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, মাহির সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া গাজীপুর ৩ আসনের সাবেক এমপি রহমত আলীর ছেলে পরিচয় দিয়ে ৪০ নারীকে প্রেম-পরকীয়ার ফাঁদে ফেলা প্রতারক মো. মাসুম বিল্লাহ ফারদিনের সঙ্গে। দুজনে মিলে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করতেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে। রিমান্ডে ফারদিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত রবিবার মাহিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দুইদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ডিবি বলছে, টিকটক, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও স্নামচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতেন মাহি। পরে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ম্যাসেঞ্জারে মেসেজ দিতেন। পরে টার্গেটকৃত ব্যক্তির ওয়াটসআপ নাম্বার নিয়ে ঘণিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে নিজেকে কুমারি পরিচয় দিয়ে নামিদামি হোটেলে লাঞ্চ/ডিনারের আমন্ত্রণ জানাতেন। এভাবে সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কৌশলে স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলতেন। যারা স্ন্যাপচ্যাট চালাতো না, তাদের স্ন্যাপচ্যাটে একাউন্ট খুলে মেসেজ দিতে বলতেন। এরপর স্ন্যাপচ্যাটের মেসেঞ্জারে নিজের অর্ধনগ্ন ছবি পাঠিয়ে রসাত্মক আলাপ করার উদ্বুদ্ধ করতেন। কেউ তার ফাঁদে পা দিলে সব অডিও, ভিডিও এর কথোপকথন রেকর্ড করে রাখতেন। পরে টার্গেটকে বিভিন্ন হোটেলে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাত্রিযাপন করতেন। নিয়ে যেতেন বিভিন্ন স্পা সেন্টার, বার, নাইট পার্টি ও সীসা লাউঞ্জেও। এরইমধ্যে সে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।

এভাবে সে নিজেকে কুমারি পরিচয় দিয়ে মানুষকে মোহনীয় মায়ায় আকৃষ্ট করে সাময়িক সময়ের জন্য একে একে ১০টি বিয়ে করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আর তার প্রেমের ফাঁদে প্রতারণার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা শতাধিক।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মাহির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ২০০৩ সালে এক প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে। কিন্তু তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য ২০১০ সালে ওই স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপরই সে লাগামহীন জীবনযাপন শুরু করে। প্রথম স্বামীর ঘরে ৩ সন্তান থাকলেও তাদের পরিচয় দেয়া বাদ দিয়ে দেন।
প্রথম স্বামীর সংসার চলমান থাকতেই সে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় এবং প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। বিয়ের পর প্রতারণা অব্যাহত রাখতে একে একে ১০টি বিয়ে করে এবং শতাধিক প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। বিভিন্ন নামিদামি হোটেলে রাত্রি যাপন করতে থাকে দেশি বিদেশি মানুষদের সঙ্গে। তার কাছে প্রতারণার স্বীকার বিভিন্ন ব্যক্তি আইনগত ব্যবসস্থাও নিয়েছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে ৫টি প্রতারণার মামলা দায়ের হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সালে মাহির সঙ্গে পরিচয় হয় নিজেকে গাজীপুর ৩ আসনের সাবেক এমপি রহমত আলীর ছেলে পরিচয় দিয়ে ৪০ নারীকে প্রেম-পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করা মো. মাসুম বিল্লাহ ফারদিনের সঙ্গে। পরে কয়েক দফা সাক্ষাত হওয়ার পর তাদের ঘণিষ্ঠতা বাড়ে এবং একসঙ্গে বেশ কয়েকবার রাত্রিযাপন করে। একপর্যায়ে তারা একে অপরের সহযোগীতায় প্রতারণার জাল আরও বিস্তার করে। ফারদিন যাদের সঙ্গে প্রতারণা করতো, তাদের সঙ্গে মাহিকে গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতো। একই পরিচয় ব্যবহার করে অনেকের সঙ্গে ওয়াটসআপে কথা বলিয়ে দিতো। পরে প্রতাররণার টাকা দুজনে ভাগ করে নিতো।

ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেউজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের ইনচার্জ এডিসি আশরাফউল্লাহ বলেন, গত ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিমান্ডে প্রতারক ফারদিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাহিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মাহির কাছ থেকে র‌্যাব, নেভি ও বিমান বাহিনী লেখা সম্বলিত ৮টি ক্যাপ, ওয়াকিটকি সেট, ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৩টি আইফোন, দুটি এটিএম কার্ড ও সীসা টানার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে, মাহির ১০ বিয়ে ও শতাধিক লোককে প্রেমের ফাঁদে ফেলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও যাচাইবাছাই চলছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।