ঢাকাশুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৬:১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এমপি রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
এপ্রিল ২৮, ২০২২ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 136 বার
Link Copied!

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে ঐচ্ছিক তহবিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই তহবিল থেকে অসহায় মানুষের নামে দুই থেকে দশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

এমনকি নিজের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিও) নামেও বেশ কয়েকবার টাকা উত্তোলন করেছেন। সেই টাকার বিষয়ে জানেন না তার ব্যক্তিগত সহকারীও। এছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে দরিদ্রদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া পানির ট্যাংক বিতরণেও অনিয়ম করেছেন তিনি। দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি ট্যাংক বাবদ নেওয়া হয়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা। ডা. রুস্তম আলী ফরাজী নিজের শশুরবাড়িতে দিয়েছেন তিন থেকে চারটি পানির ট্যাংক।

২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত পিরোজপুর-৩, মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর ঐচ্ছিক তহবিলে বরাদ্দ হওয়া টাকা বণ্টনের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, তুলনামূলক সচ্ছল, নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজের শিক্ষক, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। অনেকে জানেনই না, তাদের নামে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসান নামের এক ব্যক্তির নামে কয়েক দফা ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাসানের বাবার নাম বাবুল মিয়া। ঠিকানা সূর্যমনি, টিকিকাটা। ঠিকানার সূত্র ধরে খোঁজ পাওয়া যায় হাসানের। জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে। তার নামেই ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা তোলা হয়েছে বেশ কয়েকবার।

এ বিষয়ে হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এমপি মহোদয়ের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে চার-পাঁচ বছর কাজ করছি। কিন্তু ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা নেইনি কখনো। তিনি বলেন, আমি কেবল সংসদ সদস্যের কথামতো স্বাক্ষর করেছি। তিনি ঐচ্ছিক তহবিলের সব টাকা বাসায় এনে যাকে মন চায় দিতেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কাজ করলেও আমাকে বেতন দেওয়া হয়নি। বেতনের টাকা তুলে এমপি মহোদয়ের স্ত্রীর হাতে দিতে হতো। চলাফেরার জন্য আমাকে মাত্র চার হাজার টাকা দেওয়া হতো।

হাসান ছাড়া আরও অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের, যাদের নামে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনই বলেছেন তারা কোনো টাকা পাননি। এমনকি অনেকে জানেনই না তাদের নামে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার। কাগজে-কলমে তিনি সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দশ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে আদতে তিনি টাকা হাতে পাননি। এ বিষয়ে জানতে মরিয়ম আক্তারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি এমপির কাছে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকার জন্য কোনো আবেদনও করিনি। টাকাও তোলেনি। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

এমনই আরেকজন স্থানীয় বাবুল মিয়ার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকি। কাগজে-কলমে তার নামেও টাকা তোলা হয়েছে দশ হাজার। তবে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন যুগান্তরকে। তিনি বলেন, আমি ওসব জানি না। টাকাও পাইনি। রোমানা নামে আরেক নারীও একই কথা বলেছেন। তার নামে দশ হাজার টাকা উঠানো হলেও তিনি জানান, কখনোই তিনি কোনো টাকা হাতে পাননি। দুলাল নামের একজনের নামেও টাকা তোলা হয়েছে। তবে দুলালকে ফোন করা হলে তিনি টাকা পাননি বলে জানান। তবে কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের সংসদ সদস্যের লোকজন দুই হাজার টাকা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাদের নামে বরাদ্দ হওয়া দশ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন। পরে তারা ওই টাকাও নেননি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাড়ির কাজের লোক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বজনদের নামে। এমনই একজন আলী রেজা রঞ্জু। তালিকায় নাম লেখা কেবল রঞ্জু। তবে তালিকায় লেখা ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তিনি সংসদ সদস্যর খুব নিকটজন, স্থানীয়রা তাকে চেনেন এমপির পিএ হিসাবে। স্থানীয় উন্নয়ন কাজ থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যের হয়ে এলাকায় দেখভাল করেন তিনিই। তার নামেই টাকা তোলা হয়েছে বেশ কয়েকবার। এ বিষয়ে জানতে আলী রেজা রঞ্জুকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

একইভাবে সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে তুষখালী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা মাসুম, অপর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হাফেজ নাসির, কলেজ শিক্ষক বিপুল বিশ্বাস, বাশার, ভাগনে মো. কামাল, মেয়ের গাড়ি চালক মুশতাক, নিজ অফিস স্টাফ সোলায়মান, সাবেক পিএ মাসুম, ভাগনে জসিম, নাতি সম্পর্কিত মুসাসহ অন্তত কয়েকশ নিকটাত্মীয়র নামে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়া টাকা বরাদ্দের তালিকায় নাম রয়েছে সংসদ সদস্যের নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত ডা. রুস্তম আলী ফরাজী কলেজের অধ্যক্ষ এবং আ. ওহাব আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নাম।

এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে সরকার ৪৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে মঠবাড়িয়ায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রকল্প হাতে নেয়। সেখানে তিন হাজার লিটার বৃষ্টির পানি ধারণক্ষমতার সাত হাজার ৪০০ পানির ট্যাংক দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি পাবলিক টয়লেট, ১০০টি ডিপ টিউবওয়েল, কয়েকটি প্ল্যান্ট এবং পুকুর পুনর্খনন করার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রতিটি পানির ট্যাংকির জন্য সুবিধাভোগীদের সরকার নির্ধারিত দেড় হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গুনতে হয়েছিল পাঁচ-সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু গরিবদের ঘরপ্রতি একটি করে ট্যাংক বরাদ্দের কথা থাকলেও খোদ সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়িতে তিন-চারটি ট্যাংক দেওয়া হয়। ট্যাংক বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছিল পাশের উপজেলা পাথরঘাটায়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রোববার মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিককে ফোন করা হলে তিনি গাড়িতে আছেন জানিয়ে পরে ফোন করতে বলেন। তবে এরপর দিনভর চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে কয়েকদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সঙ্গে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রুস্তম আলী ফরাজী জাতীয় সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তিরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রুস্তম আলী ফরাজী একটি মিটিংয়ে আছেন। মিটিং শেষ হলে কথা বলে প্রতিবেদককে জানাবেন। তবে এরপর আর কল করেননি। পরে মঙ্গলবার রাতে বেশ কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করা হয় রুস্তম আলী ফরাজীর মোবাইল ফোনে। ঐচ্ছিক তহবিল বরাদ্দে অনিয়ম প্রসঙ্গে তার বক্তব্য জানতে খুদেবার্তাও পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি। সূত্র: যুগান্তর

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।